ইরান উরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক মোতায়েনেও ভীত নয় তেহরান বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হলেও ইরান কখনই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ত্যাগ করবে না।
তেহরানে একটি ফোরামে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য অত্যন্ত চড়া মূল্য দিয়েছে।’
‘কেন আমরা সমৃদ্ধকরণের উপর এত জোর দিচ্ছি এবং আমাদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও তা ত্যাগ করতে চাইছি না? কারণ আমরা মনে করি, আমাদের আচরণ নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই।’ ওমানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সাথে দেখা করার দুই দিন পর আরাঘচি এসব বলেন।
আব্বাস আরও বলেন যে, তার দেশ উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন করায় ‘ভীত’ নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধ্য করার জন্য হুমকি দিয়েছেন।
ইরানের সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভের উপর তেহরান রক্তাক্ত দমন-পীড়ন চালায়। প্রতিবাদে এই অঞ্চলে সামরিক মোতায়েন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
কারণ বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার লোককে আটক করেছে ইরান।
গত বছর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাতের আগে, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিল, যা অস্ত্র-গ্রেড স্তর থেকে একটি একটু পিছিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে হলে ৯০ শতাংশের ওপরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন হয়। সেখানে ইরান এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশের মতো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে বলে গত মার্চে জানায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে বলেছিলেন যে তার দেশ এবং ইরানের মধ্যে আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, এর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, অঞ্চলজুড়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং নিজ জনগণের সাথে আচরণ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এমআর-২