জাপানের সংসদ নির্বাচনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। রোববার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীন জোটের ভূমিধস জয়ের খবর দেওয়া হয়েছে।
এনএইচকে বলেছে, ভোট-পরবর্তী জরিপ, ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যসহ বিভিন্ন উৎসের ভিত্তিতে করা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন জোট অন্তত ৩১০টি আসন পেয়েছে।
দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে দলের বিজয়ের পূর্বাভাস গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা ধারাবাহিকভাবে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাজস্বনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে এসেছি।’’
তাকাইচি বলেন, ‘‘আমরা রাজস্বনীতির স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেব। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করব। সরকারি ও বেসরকারি; উভয় খাতেই বিনিয়োগ করতে হবে। আমরা একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলব।’’
সানায়ে তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব শুনিচি সুজুকি দেশটির গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাজস্বনীতি এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের পক্ষে আমরা জনসমর্থন পেয়েছি।
দেশটির দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের মধ্যে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের জয়ের বিষয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিল এলডিপি।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার নীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে চান। তবে চীনের সঙ্গে সংলাপও বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৬৪ বছর বয়সী সানায়ে তাকাইচি জাপানের ইতিহাসের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। গত বছরের অক্টোবরে এলডিপির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি। দেশের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
এবি