ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী মালপত্র পরিবহনের প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। এ প্রস্তুতির অন্যতম বড় অংশ হলো প্রয়োজনীয় যানবাহন সংস্থান। তবে প্রতি নির্বাচনের মতো এবারও সাতকানিয়ায় গাড়ি রিকুইজিশন বা যানবাহন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে মালিক, চালক এবং পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যাপ্ত সরকারি যানবাহন না থাকায় পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। অনেক গাড়ির মালিক রিকুইজিশন এড়াতে পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে তদবির করছেন বলেও জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, টহল দল, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম আনা–নেওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান ও ট্রাক প্রয়োজন। শুধু সাতকানিয়া উপজেলাতেই দুই শতাধিক যানবাহন রিকুইজিশনের প্রয়োজন হতে পারে।
এরই মধ্যে থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ রিকুইজিশনের কাজ শুরু করেছে।
কেরানীহাট পুলিশ বক্সের ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “নিয়মানুযায়ী গাড়ি রিকুইজিশন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন সংগ্রহ করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে গাড়ি রিকুইজিশন নিয়ে বিরক্ত হচ্ছেন। কিন্তু পুলিশেরও কিছু করার নেই। এসব গাড়ি রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার হবে। শুধু পুলিশ নয়, অন্য সংস্থার কাজেও গাড়িগুলো প্রয়োজন হবে।”
ট্রাফিক ইনচার্জ জানান, রিকুইজিশনের খবর পেয়ে তার পরিচিত অনেকেই নিজের গাড়ি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করছেন।
তিনি বলেন, “সবাই যদি গাড়ি দিতে না চান, তাহলে পুলিশ কোথা থেকে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন সংগ্রহ করবে? নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে এসব গাড়ি ব্যবহার হবে—এটা সবাই জানেন। তারপরও দিতে চাইছেন না। ফলে পুলিশকে বাধ্য হয়ে কঠোর হতে হচ্ছে।”
সাতকানিয়ায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ২০৫টি গাড়ি রিকুইজিশন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারক, সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের ব্যবহারের জন্য এসব যানবাহন প্রয়োজন হবে।”
ইখা